আশাশুনীর প্রতাপনগর যেন এখন হাজারো মানুষের কান্নার কারন।প্রকৃতির তাণ্ডবলীলায় ক্ষতবিক্ষত প্রতাপনগরের জনপদ। ২০ মে ২০২০ আঘাত হানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ফলশ্রুতিতে পানি বন্দী হয়ে পড়ে ১০ গ্রামের ৮০ হাজার মানুষ।
৯ মাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বাঁধ আটকানো গেলেও তার ৩ মাস পরে আবারো আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় "যশ"। যশ যেন আবারো ভেঙে দেয় এ বৃহৎ জনপদের রঙিন স্বপ্নকে ! তারপর থেকে ধ্বংসলীলা চলতেই আছে প্রতাপনগরে। একের পর এক মসজিদ,মন্দির, মানুষের বাস্তুভিটা ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভিটা মাটি হারিয়ে এখন অসহায় অসংখ্য মানুষ।বাপ দাদার শেষ মাটিটুকু যে তারা ছাড়তে চাইছেননা।
তারই প্রেক্ষিতে আজ ১২ই অক্টোবর রোজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে মানববন্ধন করেন উপকূলীয় শিক্ষার্থীরা।
টেকসই বেড়িবাঁধ ও বাস্তুহারা মানুষদের পূর্নবাসনকে কেন্দ্র করে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রতাপনগরের কৃতি সন্তানরা। আরো উপস্হিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুজাইফা আল-আমিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিজবুল্লাহ শরিফ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। নাসির মাহমুদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। মিয়ারাজ, বুশরা ম্যাটস সাতক্ষীরা। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলী সুজন, দৈনিক ভোরের কাগজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মশিউর রহমান ফিরোজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নাছির উদ্দীন, দৈনিক দৃষ্টিপাতের স্টাপ রিপোটার মীর আবু বক্কর, বাংলাদেশ দূতাবাস কাতার এর সাবেক আইন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জর্জ কোটের আইনজীবী আসাদুল্লাহ আসাদ,সহ আরো অনেক সচেতন বক্তাবৃন্দ।
এ সময় প্রতাপনগরের কৃতি সন্তান এস,এম মিয়ারাজ হোসেন বলেন বার বার ভাঙনের স্বীকার প্রতাপনগরে হচ্ছেনা যথাযথ বেড়িবাঁধ।পরিকল্পিত রাস্তা না হওয়ায় অল্পতেই ঘটছে দুর্ঘটনা ও স্বীকার হচ্ছেন নদী ভাঙনের যার ফল ভোগ করছেন হাজারো গ্রামবাসী! যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যার্থতা। তিনি আরো অভিযোগ করেন জনপ্রতিনিধিরা দুর্গতদের সাহার্য্য করার কথা বললেও তা পৌঁছাচ্ছে না ভুক্তভোগীদের কাছে। এসময় বক্তারা খুব দ্রুতই স্হায়ী বেড়িবাঁধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্নবাসন এর দাবী রাখেন এবং জলবায়ু সমস্যা সমাধানের আহব্বান জানান।
Comments
Post a Comment